বিজ্ঞাপনের জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন
Online শপিং করুন এখন [Packly] তে এখানেই click করুন

একমুঠো অবহেলা

 একমুঠো অবহেলা
কালের কন্ঠ পত্রিকা
ক্লিক


আমার জন্মের দিনটি ছিল মায়েরও পুনর্জন্মের দিন। মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখে, মা যখন আমাকে জন্ম দিয়েছিলেন, তখন থেকেই তিনি হয়ে উঠতে শুরু করেন অসীম শক্তিশালী এক মানবী। একদিকে অফিসের ফাইলের স্তূপ, আরেকদিকে উনুনের ধোঁয়া, অন্যদিকে আমি। তিন প্রান্তের টানে পিষ্ট হয়ে মায়ের নিজের আকাশটা কখন যেন ছোট হতে হতে একদম নাই হয়ে গেল, কেউ খেয়ালই রাখল না। সবাই ভাবল, মা হয়তো হঠাৎ করেই কোনো এক্সট্রা অর্ডিনারি পাওয়ার পেয়ে গেছেন। সেই পাওয়ারের জন্যই তো সব সামলে নিয়েছিলেন মা। সবাই এও ভাবল, মা কখনোই ক্লান্ত হন না। কিন্তু কেউ ভাবল না, মা-ও তো মানুষ। মায়েরও তো মন আছে, তাঁরও তো যত্ন দরকার। সবাই বেমালুম ভুলেই গেল লৌহমানবীরও বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। দিনভর অমানুষিক পরিশ্রমের পর যখন তিনি সবার খাওয়া শেষে একা রান্নাঘরে বসে আধো-অন্ধকারে খাবার গলাধঃকরণ করতে থাকেন, তখন তাঁর চোখের কোণে নোনা জল। সবার জীবনের পরিবর্তন হয়, শুধু মায়ের জীবনের কোনো পরিবর্তন হলো না এত বছরেও। দিনশেষে আমার লৌহমানবীর প্রাপ্তি বলতে কেবল একমুঠো অবহেলা। সেই অস্তিত্বের ওপর দাঁড়িয়েই চলছে আমার জীবন।


প্রজ্ঞা দাস


অর্থনীতি বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ


Post a Comment

Previous Post Next Post