ফিচার ডেস্ক | প্রকাশিত: ০২:৫১ পিএম, ০৮ মে ২০২৬
তারুণ্যের ভাবনায় রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস
প্রজ্ঞা দাস
শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ
জনগণের নিজস্ব ইচ্ছা এবং উদ্যোগে পরিচালিত সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বলে। স্বেচ্ছাসেবা হলো টেকসই উন্নয়নের চতুর্থ ভিত্তিপ্রস্তর, যা কেবল মানবিক সহমর্মিতার প্রকাশ নয়, বরং এটি নাগরিক দায়বদ্ধতার সক্রিয় অনুশীলন। দুর্যোগ, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা কিংবা পরিবেশ প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর কাজের পরিধি ক্রমেই বাড়ছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলোর মাধ্যমে বিশেষ করে ছাত্রসমাজ অধিক পরিমাণে সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করতে পারছে। এতে মানব সেবা হচ্ছে, অবসর সময়ের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে, ছাত্রজীবন থেকেই সহমর্মিতা, সহায়তা, দায়িত্ববোধ, লিডারশিপ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। যা এসব তরুণদের ভবিষ্যৎ জীবনকে অন্যদের থেকে এক ধাপ এগিয়ে রাখছে এবং নতুন গতি দান করছে। তাই সঙ্গত কারণেই, বর্তমান সময়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো তরুণদের আগ্রহের শীর্ষে রয়েছে। কিন্তু আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও সময়সংকট, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও যাতায়াত ব্যয় তরুণদের নিয়মিত অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করছে। তাছাড়া দুর্বল সমন্বয়, প্রশিক্ষণের ঘাটতি, স্বীকৃতির অভাব এবং দুর্যোগ বা মহামারির সময় নিরাপত্তা ঝুঁকি অনুপ্রেরণা কমিয়ে দিচ্ছে। এই অবস্থায় কাঠামোবদ্ধ প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, যাতায়াত সহায়তা, স্বীকৃতি এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও সংগঠনের সমন্বয়ই স্বেচ্ছাসেবায় অংশগ্রহণকে বাড়াতে পারে। সমাজসেবীরাই সমাজকে টিকিয়ে রাখার শক্তি। সমাজসেবীর সংখ্যা বাড়লে এই শক্তিই মানবিক উন্নয়নের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হয়ে উঠবে। আর পুরো পৃথিবীর সামনে বাংলাদেশ হয়ে উঠবে মানবিক উন্নয়নের দেশ।
Post a Comment