বিজ্ঞাপনের জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন
Online শপিং করুন এখন [Packly] তে এখানেই click করুন

চ্যাটজিপিটির জিবলি-স্টাইল ছবি: সাইবার ঝুঁকির রেড অ্যালার্ট

 দৈনিক ডেল্টা টাইমস নিউজ,

চ্যাটজিপিটির জিবলি-স্টাইল ছবি: সাইবার ঝুঁকির রেড অ্যালার্ট
প্রজ্ঞা দাস:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৫, ১২:৪০ পিএম 
আমরা বর্তমানে বিজ্ঞানের এক অপার সম্ভাবনার যুগে বসবাস করছি, যেখানে ডিজিটাল প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে আগের চেয়ে বহুগুণ সহজ, দ্রুত এবং কার্যকরী করে তুলেছে। তবে এই প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও পরিচয়ের জন্যও এক অদৃশ্য হুমকি তৈরি হয়েছে।

একসময় প্রযুক্তি ছিল কেবল একটি সহায়ক হাতিয়ার, কিন্তু এখন এটি এক অচেনা বিপদের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে এআই (AI)-জেনারেটেড জিবলি-স্টাইলের ছবি আজ সাইবার নিরাপত্তার এক নতুন সংকট তৈরি করেছে। প্রথম দেখায় এটি নিছকই শৈল্পিক ও আকর্ষণীয় মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে ভয়ংকর ডিজিটাল বিপদ। এ ধরনের ছবি তৈরি করতে ব্যবহৃত ChatGPT (GPT-4), Midjourney, DALL·E, এবং Stable Diffusion-এর মতো AI টুলস আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করা থেকে শুরু করে পরিচয় জালিয়াতি, আর্থিক প্রতারণা, ডিপফেক ভিডিও তৈরি, এবং ডার্ক ওয়েবে অবৈধ কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার হতে পারে।
জিবলি-স্টাইল কী এবং কেন এটি বিপজ্জনক?

জিবলি-স্টাইল বলতে জাপানি অ্যানিমেশন মাস্টার হায়াও মিয়াজাকির চলচ্চিত্রের মতো শৈল্পিক, স্বপ্নিল ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা একটি ভিজ্যুয়াল স্টাইল বোঝায়। এই স্টাইলের ছবিগুলো সাধারণত নরম আলো, প্রাণবন্ত প্রকৃতি, এবং মানবিক আবেগের গভীরতা ফুটিয়ে তোলে।

AI টুলগুলোর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা কেবল একটি বাক্য (prompt) লিখেই এই স্টাইলের ছবি তৈরি করতে পারেন। কিন্তু এখানেই লুকিয়ে আছে এক মারাত্মক সাইবার হুমকি। এসব AI টুলস ব্যবহারকারীর ডিভাইস থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, এমনকি ব্যক্তিগত ছবি বা ফাইলও AI কোম্পানির সার্ভারে পাঠিয়ে দিতে পারে।


অনেকেই না জেনেই এসব টুলসে তাদের নিজস্ব ছবি আপলোড করছেন, কিন্তু তারা বুঝতে পারছেন না যে, এই ছবি শুধু আপলোড নয়, বরং তাদের লোকেশন, ডিভাইসের তথ্য, এমনকি সংরক্ষিত পাসওয়ার্ড পর্যন্ত সংগ্রহ করতে পারে।
সাইবার অপরাধের নতুন হাতিয়ার: এআই-জেনারেটেড ছবি

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, AI-জেনারেটেড নারী ও শিশুর ছবি ডার্ক ওয়েবের পর্নোগ্রাফি সাইটে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শুধু তাই নয়, ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে AI-তৈরি ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে সম্মানহানি, ব্ল্যাকমেইল, এবং রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা ছড়ানো সম্ভব।

এমনকি ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধেও ডিপফেক প্রযুক্তির ব্যবহার দেখা গেছে, যেখানে নেতাদের কণ্ঠ ও মুখাবয়ব নকল করে ভুয়া বার্তা প্রচার করা হয়েছে। এ ধরনের প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ার ফলে বিশ্বব্যাপী সাইবার অপরাধীরা এর অপব্যবহার করছে।
ব্যক্তিগত সাইবার নিরাপত্তার জন্য বিপদ

এআই-জেনারেটেড ছবির মাধ্যমে সাইবার অপরাধীরা ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে পারে এবং তা দিয়ে বিভিন্ন প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালাতে পারে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, একটি সাধারণ ছবি থেকেও একজন ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব।

ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে টাকা আত্মসাৎ করা যায়। ফলে, আপনার কোনো ছবি যদি AI টুলসে চলে যায়, তাহলে সেটি ভবিষ্যতে আপনার পরিচয় চুরি ও আর্থিক জালিয়াতির হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।
AI-জেনারেটেড ছবি ও শিশুদের মানসিক বিকাশে প্রভাব

শুধু ব্যক্তিগত তথ্যের হুমকিতে সীমাবদ্ধ নয়, AI-জেনারেটেড জিবলি-স্টাইলের ছবি শিশুদের মানসিক বিকাশেও বিরূপ প্রভাব ফেলছে। শিশুরা এখন বাস্তব ও ভার্চুয়াল জগতের পার্থক্য বুঝতে পারছে না, যা তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করতে পারে।

এছাড়া, AI-জেনারেটেড ছবি শিল্পী, ডিজাইনার, এবং অ্যানিমেশন শিল্পে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, মানুষের হাতে আঁকা চিত্রকর্মের বদলে AI-তৈরি চিত্র দ্রুত এবং কম খরচে তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, ফলে শিল্পী ও ডিজাইনারদের চাকরির সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।
কীভাবে এই সাইবার ঝুঁকি থেকে নিরাপদ থাকবেন?

এআই-জেনারেটেড ছবি সম্পর্কিত এই বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আপনাকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে—

✅ ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য AI টুলে আপলোড করা থেকে বিরত থাকুন।
✅ ডিভাইসে শক্তিশালী অ্যান্টিভাইরাস (Bitdefender, Kaspersky) ব্যবহার করুন।
✅ টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করুন, যাতে ফেসিয়াল রিকগনিশন দিয়ে লগইন সম্ভব না হয়।
✅ AI টুলগুলোর পারমিশন সীমিত করুন এবং মেসেজ বা নোটিফিকেশন ভালোভাবে পড়ে অনুমতি দিন।
✅ ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও স্টোরেজ এক্সেস দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
✅ সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে জনগণ এই ধরনের ডিজিটাল বিপদের ব্যাপারে সচেতন হয়।


লেখক : শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ।


ডেল্টা টাইমস/প্রজ্ঞা দাস/সিআর/এমই
 

Post a Comment

Previous Post Next Post