কালবেলা পত্রিকা
ই- পেপার ক্লিক
বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় শিক্ষা একটি অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এ শিক্ষাব্যবস্থার ভিত এখনো শহরকেন্দ্রিক, আর গ্রামের শিক্ষাব্যবস্থা দিন দিন যেন পিছিয়ে পড়ছে। 'গ্রামে শিক্ষাব্যবস্থার অধঃপতন' এখন আর শুধু একটি শিরোনাম নয়, এটি বাস্তবতার এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। একসময় গ্রামের স্কুলগুলো ছিল জ্ঞানের আলো ছড়ানোর কেন্দ্র। শিক্ষকরা ছিলেন সমাজের শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি, আর শিক্ষার্থীরা ছিল শেখার জন্য উদগ্রীব। কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, আধুনিক শিক্ষাসামগ্রীর অভাব এবং সর্বোপরি মানসম্মত শিক্ষার ঘাটতি গ্রামীণ শিক্ষাব্যবস্থাকে দিন দিন দুর্বল করে তুলছে। শিক্ষকের অভাব এবং অনিয়মিত উপস্থিতিও একটি বড় সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণি একসঙ্গে পরিচালনা করতে হচ্ছে, যা শিক্ষার মানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আবার কিছু শিক্ষক দায়িত্ব পালনে উদাসীন হওয়ায় শিক্ষার্থীরা যথাযথ দিকনির্দেশনা পাচ্ছে না। অন্যদিকে, দরিদ্রতা গ্রামীণ শিক্ষার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর পরিবর্তে কাজ করতে বাধ্য করে। ফলে ঝরে পড়ার হার বাড়ছে, বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে এ প্রবণতা আরও বেশি। অল্প বয়সে বিয়ে, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা এবং সচেতনতার অভাব গ্রামীণ শিক্ষার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। শিক্ষাব্যবস্থার এ অধঃপতনের পেছনে প্রশাসনিক দুর্বলতাও কম দায়ী নয়। যথাযথ তদারকি ও পরিকল্পনার অভাবে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন হয় না, কিংবা হলেও তার সুফল শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছায় না। শিক্ষার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং তার কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। শেষ পর্যন্ত, একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন শহরের পাশাপাশি গ্রামের শিক্ষাব্যবস্থাও সমানভাবে উন্নত হবে। গ্রামে শিক্ষাব্যবস্থার অধঃপতন রোধ করা এখন সময়ের দাবি, নয়তো আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক গভীর সংকটে পড়বে।
মোহাম্মদ সিফাত মিয়া
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
mdrifatmiah747@gmail.com
নড়াইলে জ্বালানি পাম্পে সিন্ডিকেট
জ্বালানি আমাদের জীবনযাত্রা, পরিবহন, উৎপাদন ও বাজারব্যবস্থার কেন্দ্রীয় চালিকাশক্তি। এর বণ্টনে বৈষম্য হলে জনজীবনে অরাজকতা তৈরি হয়। নড়াইলের একাধিক জ্বালানি পাম্পে এখন সেই বণ্টন অরাজকতার চিত্র দৃশ্যমান। পাম্পে তেল আসার পর লাইনে দাঁড়ানো যানবাহনের বদলে টব, ড্রাম ও বিভিন্ন পাত্রে বড় পরিমাণ তেল তোলা হচ্ছে। একই সঙ্গে আগে থেকেই ঠিক করা কিছু লোকের বাইক লাইনের সামনে এনে, সাধারণ মানুষকে সরিয়ে দিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল দেওয়া হচ্ছে। ফলে লাইনে থাকা যানবাহনগুলো অধিকাংশই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও তেল পাচ্ছে না। এই প্রক্রিয়ায় পাম্পের ভেতরেই একটি অনানুষ্ঠানিক বণ্টন ব্যবস্থা কাজ করছে, যেখানে দৃশ্যত কোনো স্বচ্ছ রেজিস্টার বা প্রকাশ্য তদারকি নেই। ফলাফল হিসেবে পাম্প এলাকায় দীর্ঘ অপেক্ষা, পরিবহন বিলম্ব, বিশৃঙ্খলা এবং জনজীবনের দুর্ভোগ দেখা দিচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহের এই অনিয়ম কেবল একটি পাম্পের সীমায় আবদ্ধ নয়, এটি পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলার প্রতি বিশাল হুমকি। এই অবস্থা চলতে থাকলে সামনে ভয়াবহ দিন অপেক্ষা করছে। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে পাম্পে স্বচ্ছ ও কার্যকর তদারকির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নিরবচ্ছিন্নভাবে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
প্রজ্ঞা দাস
শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ
proggadas2005@gmail.com
Post a Comment