দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা,
১০ এপ্রিল ২০২৫, ১২:০২ এএম | আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৫, ১২:০২ এএম
সরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা গ্রহণ নাগরিকের অধিকার হলেও দেশের লক্ষাধিক প্রতিবন্ধী নাগরিক সেই অধিকার থেকে কার্যত বঞ্চিত। অধিকাংশ দপ্তর, আদালত, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই হুইলচেয়ার র্যাম্প, ব্রেইল দিকনির্দেশনা কিংবা শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য সংকেতচিত্র বা সহায়ক প্রযুক্তি। বিশেষভাবে চাহিদাসম্পন্ন নাগরিকদের কথা মাথায় রেখেও বাস্তব অবকাঠামো প্রায় সর্বত্রই অনুপস্থিত। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় বা মন্ত্রণালয় সবখানে প্রবেশপথে সিঁড়ির বাধা, সহায়ক জনবল ও ডিজিটাল ব্যবস্থার অভাব রয়েছে। ফলে প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারি ‘জনসেবা’ কার্যত রুদ্ধ একটি দরজা। অফিসে ঢুকতে গিয়ে তাদের অন্যের সহায়তা নিতে হয়, যা শারীরিক দুর্ভোগের পাশাপাশি মানসিক অপমানেরও কারণ। একজন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী র্যাম্প পেলে স্বাধীনভাবে চলতে পারতেন; দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কেউ ব্রেইল সাইন পেলে নিজেই কাগজপত্র সামলাতে পারতেন। অবকাঠামোগত ঘাটতি এই স্বাবলম্বন কেড়ে নিচ্ছে। প্রতিদিনই তাদের বাধা, অপমান ও বঞ্চনার মুখে পরতে হচ্ছে। প্রতিবন্ধীদের ন্যায্য সেবা পেতে বাড়তি শ্রম ও মানসিক প্রস্তুতি নিতে হয়, যা অন্যদের প্রয়োজন হয় না। প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ কোন করুণা নয়, এটি সমানাধিকারের রাষ্ট্রে একটি মৌলিক অধিকার। তাই অবিলম্বে সরকারি অফিসে প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।
প্রজ্ঞা দাস
শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ

Post a Comment