বিজ্ঞাপনের জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন
Online শপিং করুন এখন [Packly] তে এখানেই click করুন

ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কনীতি ও বাংলাদেশের সম্ভাব্য ঝুঁকি

 

ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কনীতি ও বাংলাদেশের সম্ভাব্য ঝুঁকি
প্রজ্ঞা দাস:
 
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১০:৩৩ এএম আপডেট: ২৫.০২.২০২৫ ১১:০৫ এএম 
 


বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি বর্তমানে অস্থিরতার মুখোমুখি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়াবে, তাদের বিরুদ্ধে সমান হারে "পাল্টা শুল্ক" আরোপ করা হবে। এই নীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির অধীনে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং দেশীয় শিল্প রক্ষাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। যদিও এ নীতির মূল লক্ষ্য চীন, তবে এর প্রভাব পড়তে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, মেক্সিকো এবং বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর। পাল্টা শুল্ক নীতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার বাণিজ্য অংশীদারদের চাপে রাখতে চাইছে। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি। অন্যদিকে, চীনের সাথে এই ঘাটতি ২৭৯ বিলিয়ন ডলার এবং মেক্সিকোর সাথে ১৫২ বিলিয়ন ডলার। যদিও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম, তবুও ট্রাম্পের নীতির আওতায় পড়ার ঝুঁকি তৈরি পোশাক শিল্পের মতো রপ্তানিনির্ভর খাতগুলোর জন্য উদ্বেগজনক। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ তৈরি পোশাক (RMG) খাত। দেশের মোট রপ্তানির ৮০% এর বেশি এ খাত থেকে আসে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৭.৩৭ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ৯.০৩ বিলিয়ন ডলার (সূত্র: বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো)। তবে, যুক্তরাষ্ট্র যদি বাংলাদেশের পোশাকের ওপর বাড়তি শুল্ক বসায়, তাহলে আমদানিকারকরা ভিয়েতনাম, ভারত বা কম্বোডিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশগুলোতে ঝুঁকতে পারেন। এর ফলে বাংলাদেশের বাজার হারানোর পাশাপাশি উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে জিএসপি (জেনারেলাইজড সিস্টেম অফ প্রেফারেন্সেস) সুবিধা স্থগিত করে। এর ফলে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ মার্কিন বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত। নতুন করে শুল্ক আরোপ হলে তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি চামড়া, জুতা ও ওষুধশিল্পের মতো উদীয়মান খাতগুলোর প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হবে। বাণিজ্য সংঘাতের কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে সতর্ক হতে পারেন। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) ছিল মাত্র ২.৫ বিলিয়ন ডলার। শুল্ক বৃদ্ধি ও বাণিজ্য অনিশ্চয়তা এফডিআই আরও কমিয়ে দিতে পারে, যা কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। মোকাবিলার কৌশল ১. বাণিজ্য বৈচিত্র্যকরণ: ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি আইটি সেবা, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং কৃষিপণ্যের রপ্তানিতে জোর দিতে হবে। ২. কূটনৈতিক তৎপরতা: যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক জোরদার করে জিএসপি পুনরুদ্ধার এবং শুল্ক নিয়মে ছাড় আদায়ের চেষ্টা করা। ৩. প্রযুক্তিগত উন্নয়ন: স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়া এবং উচ্চমানের পণ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ করে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো। ৪. তরুণ উদ্ভাবনী শক্তির ব্যবহার: ডিজিটাল মার্কেটিং, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম এবং নতুন বাজার বিশ্লেষণে তরুণদের সম্পৃক্ত করা। ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক নীতি বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হলেও, সঠিক পরিকল্পনা ও কৌশলের মাধ্যমে এ ঝুঁকি মোকাবিলা সম্ভব। রপ্তানির বহুমুখীকরণ, কূটনৈতিক সক্রিয়তা এবং উৎপাদন খাতের আধুনিকীকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ এই সংকটকে একটি সুযোগে রূপান্তর করতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতির এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে বাংলাদেশকে কেবল প্রতিক্রিয়াশীল নীতির ওপর নির্ভর না করে ভবিষ্যতকেন্দ্রিক কৌশল গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায়, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার এই নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশের অর্থনীতি সংকটের মুখে পড়তে পারে। লেখক : শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ।

Post a Comment

Previous Post Next Post