বিজ্ঞাপনের জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন
Online শপিং করুন এখন [Packly] তে এখানেই click করুন

কৃষি বিপণন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্ম

 

কৃষি বিপণন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্ম

 Click here  দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকা প্রকাশিত

প্রজ্ঞা দাস
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:০০ এএম
 
বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট ও কৃষি বিপণন চ্যালেঞ্জ বর্তমানে একটি জটিল ও বহুমাত্রিক সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক সম্পদের সীমাবদ্ধতা ও অর্থনৈতিক বৈষম্য এই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে। বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ হলেও বর্তমান সময়ে কৃষি খাত নানা সংকটের মুখে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক খাদ্য চাহিদা ৬০% বৃদ্ধি পাবে, অথচ উৎপাদনশীলতা সে হারে বাড়ছে না। এর অন্যতম কারণ জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষিজমির সংকোচন, কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি , খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় নানা সমস্যা এবং কৃষি বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতা। এমন পরিস্থিতি, যেখানে প্রতিদিন কৃষকরা ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, সাধারণ মানুষও খাদ্য সংকটে ভুগছে। বাংলাদেশ ভৌগোলিক কারণে প্রায়ই বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন ৩০% পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অসম বৃষ্টিপাত ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তা ছাড়া দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে কৃষিজমি দ্রুত কমে যাচ্ছে।  

আজকের যুবসমাজের হাত ধরেই সম্ভব খাদ্য সংকট ও কৃষি বিপণন ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা। সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির ব্যবহারে তারা হতে পারে নতুন কৃষিবিপ্লবের রূপকার। উন্নত বিশ্বে ড্রোন ব্যবহার করে ফসলের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা হয়। তরুণরা চাইলে বাংলাদেশেও এই প্রযুক্তি আনতে পারে। পাশাপাশি তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (অও) ও ইন্টারনেটভিত্তিক চাষাবাদ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে। এর মাধ্যমে সঠিক সময়ে পানি, সার ও কীটনাশকের ব্যবহার নিশ্চিত হবে। তরুণরা স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান এবং উন্নত যন্ত্রপাতি ব্যবহার সম্পর্কের দিকনির্দেশনা দিতে পারেন। এতে কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া স্টার্টআপের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য অটোমেটেড সেচব্যবস্থা, মাটি পরীক্ষা, ডিজিটাল কৃষি বাজার তৈরি করতে পারেন। এই ব্যবস্থা গ্রহণ করে কৃষিক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসা সম্ভব। তরুণ উদ্যোক্তারা কৃষি খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন, যা কৃষকদের লাভবান করবে এবং খাদ্য উৎপাদনও বাড়াবে। সবচেয়ে বড় বিষয় উচ্চশিক্ষায় কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো উচিত। তরুণদেরও উচিত কৃষিকে কেন্দ্র করে প্রচুর গবেষণা করা, যাতে নতুন নতুন প্রযুক্তি এবং কৃষি উপকরণ, চাষাবাদের নিয়ম আবিষ্কার করা সম্ভব হয়, যা অনুসরণ করে কৃষিতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ‘কৃষি উদ্যোক্তা কোর্স’ চালু করা দরকার, যাতে শিক্ষার্থীরা কৃষি খাতকে পেশা হিসেবে নিতে উৎসাহিত হন। কৃষিতে তরুণ প্রজন্মের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে সক্রিয় অংশগ্রহণ কৃষিকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। বাংলাদেশের কৃষি খাত এক নতুন যুগের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে টিকে থাকতে হলে আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের প্রয়োগ জরুরি। এই সংকট মোকাবিলার জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে তরুণ প্রজন্ম। তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল কৃষি বিপণন, স্মার্ট ফার্মিং, সংরক্ষণ ও রপ্তানিব্যবস্থার উন্নয়নে তরুণদের কার্যকর উদ্যোগ খাদ্য সংকট ও কৃষি বিপণন ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জগুলো সহজেই মোকাবিলা করতে পারবে। এখন সময় এসেছে তরুণদের কৃষি খাতে সম্পৃক্ত করার, যাতে তারা শুধু চাকরি খুঁজবেন না, বরং উদ্যোক্তা হয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেতৃত্ব দেবেন। নতুন যুগের কৃষি মানেই তরুণদের নেতৃত্বে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় এবং এটিই হতে পারে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কৃষিবিপ্লবের মূলমন্ত্র। সরকার, কৃষক, কৃষির সঙ্গে জড়িত সব প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের সম্মিলিত কার্যকরী পদক্ষেপের মাধ্যমেই খাদ্য সংকট এবং কৃষি বিপণনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশ খাদ্য ও কৃষিক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে, যার মাধ্যমে দেশ ও জাতির উন্নয়ন সাধিত হবে এবং বাংলাদেশও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হবে।

প্রজ্ঞা দাস : শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ

ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা

 


 



 

Post a Comment

Previous Post Next Post